পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। এতে বর্তমান পাকিস্তানের ভাষাগত বৈচিত্র ও মাতৃভাষার গুরুত্ব স্থান পেয়েছে। কিন্তু উল্লেখ করা হয়নি ১৯৫২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংগঠিত ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ। বিবৃতিতে উর্দুর পাশাপাশি পশতু, সিন্ধি, বালুচির নাম থাকলেও উল্লেখ করা হয়নি বাংলা ভাষার নাম। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এখনও ৩০ লাখ বাংলাভাষী বসবাস করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির নামে জারিকৃত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আত্মপরিচয়, আত্মসম্মান ও সমৃদ্ধির সুযোগ নিশ্চিতে ভাষার শক্তিকে স্বীকার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তানের ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা’ উর্দুর পাশাপাশি পাঞ্জাবি, পশতু, সিন্ধি, বালুচি, সেরাইকি, ব্রাভি, হিন্দকো, শিনা, বুরুশাস্কি, ওয়াহি, হাজারাগির মতো পাকিস্তানে প্রচলিত অন্যান্য ভাষার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মাতৃভাষাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জ্ঞান ও সংস্কৃতির বাহক হিসেবে কাজ করে।
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির এই বার্তার কোথাও বাংলা ভাষার উল্লেখ নেই। পাকিস্তানে, বিশেষত করাচীতে, প্রায় ৩০ লাখ বাঙালির বাস। বাংলাভাষী এসব মানুষের ভাষা পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঠাঁই পায়নি।
১৯৪৮ থেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন চলমান ছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ঢাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের মিছিলে গুলি চালালে প্রাণ হারান ভাষা সংগ্রামীদের অনেকে।
ভাষা আন্দোলন স্মরণে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সালে থেকে দেশে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে মাতৃভাষার অধিকার সমুন্নত রাখতে।
